প্রকাশিত:
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে বড়দিনে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে কথা বলেন জেলেনস্কি। ওই আলোচনার পর তিনি জানান, সংলাপে ‘নতুন কিছু ধারণা’ উঠে এসেছে, যা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত শান্তির পথে এগোতে সহায়ক হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “আমরা সময় নষ্ট করছি না। সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।” তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন লক্ষ্য শতভাগ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়া দখল করতে না পারা দনবাস অঞ্চলের কিছু অংশে একটি নিরস্ত্রীকৃত ‘ফ্রি ইকোনমিক জোন’ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন জেলেনস্কি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকবে ইউক্রেনীয় পুলিশের হাতে।
পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। এতে উল্লেখ রয়েছে, ভবিষ্যতে রাশিয়া নতুন করে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলো সমন্বিতভাবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেবে। একই সাথে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জনবল ৮ লাখে বজায় রাখার প্রস্তাবও রয়েছে, যা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল মস্কো।
তবে শান্তি উদ্যোগ ঘিরে কিয়েভ ও মস্কোর অবস্থান এখনো বেশ দূরত্বে রয়েছে। রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তা ইউক্রেনের প্রস্তাবের সাথে ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন’। যদিও আলোচনায় ‘ধীর কিন্তু স্থির অগ্রগতি’র কথা বলা হচ্ছে, দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা। ফ্লোরিডায় বৈঠক শেষে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ দেশে ফেরার পর এই যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ সাম্প্রতিক আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে শান্তি আলোচনা বানচালের অভিযোগ তুলেছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। খারকিভে রুশ বিমান হামলায় শিশুসহ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় চেরকাসি অঞ্চলের উমান শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর জবাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের নভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, ওই শোধনাগারটি দক্ষিণ রাশিয়ায় তেলপণ্যের অন্যতম বড় সরবরাহকারী এবং রুশ সেনাবাহিনীর রসদ জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।